অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম নিয়ে অজানা কিছু বিষয় যেটা জানা প্রয়োজন আপনার কম্পিউটার সুরক্ষা করার জন্য যেকোনো ভাইরাস এবং ম্যালোওয়ার থেকে।

আমরা অনেকেই কম্পিউটার বাবহার করি কিন্তু অনেক সময় ভাইরাস এ আমাদের কম্পিউটার স্লো হয়ে যাই। এটা আমাদের অনেক দুশচিন্তাই ফেলা দেই। এজন্য আমরা সমাধান খুজে বেড়াই। কিন্তু আমাদের একমাত্র রিপেয়ার ম্যান সারা উপাই পাইনা। এজন্য আমাদের একটি লিখনী যেটা আপনাদের অনেক উপকার করবে।

মাল্টিলেয়ার  সিকিউরিটি স্ট্যাটেজির একটি অংশ হলো অ্যান্টিভাইরাস। আপনি একজন দক্ষ স্মার্ট উইন্ডোজ কম্পিউটার ইউজার হবার পরও আপনার অ্যান্টিভাইরাস প্রোগাম ব্যবহারের প্রয়োজন আছে। এবার জেনে নিই কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ম্যালওয়্যার ডিটেক্ট করে।

অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম টেস্ট করাঃ

আপনি যদি পরীক্ষা করতে চান যে আপনার অ্যান্টিভাইরাস সঠিকভাবে কাজ করছে কিন না? EICAR হলো অ্যান্টিভাইরাস এর কাজ পরীক্ষা করার একটি স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি। এটি একটি ভাইরাস ফাইল হলেও আপনার কোন ক্ষতি করবে না। এটি যদি আপনার অ্যান্টিভাইরাস ম্যালওয়্যার হিসেবে ডিটেক্ট করে তাহলে বুঝতে হবে অ্যান্টিভাইরাস ঠিক ভাবে কাজ করছে।

ফলস্‌ পজেটিভঃ

বিপুল পরিমান সফটওয়্যার প্রদিনিয়ত আমরা ব্যবহার করে চলছি। এগুলোর মধ্যে থেকে একটি নিরাপদ ফাইলকে অ্যান্টিভাইরাস ভুলক্রমে ম্যালওয়্যার হিসেবে শনাক্ত করতে পারে। এই বিষয়টি ফলস্‌ পজেটিভ নামে পরিচিত। কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভুল থেকে যায়। ফলে প্রোগ্রাম উইন্ডোজ এর সিস্টেম ফাইল, জনপ্রিয় থার্ডপার্টি প্রোগ্রাম অথবা অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের বিভিন্ন ফাইল গুলোকে ভাইরাস ধরে নেয়। এমনটি হবার খবরও আছে। Microsoft Security Essentials গুগল ক্রোমকে ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করেছিল।  AVG অ্যান্টিভাইরাস উইন্ডোজ ৭ এর ৬৪ বিটকে ড্যামেজ করেছিল । এছাড়া Sophos নামের অ্যান্টিভাইরাসটি নিজেকে ম্যালওয়্যার শনাক্ত করেছিল। তারপরও আপনার অ্যান্টিভাইরাসটি যদি কোন ফাইলকে ভাইরাস বলে তাহলে আপনাকে তা বিশ্বাস করতে হবে। যদি নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে উক্ত ফাইল কে VirusTotal  এ আপলোড করতে পারেন। ভাইরাস টোটাল ফাইলটিকে বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম দিয়ে স্ক্যান করে আপনাকে জানাবে কেন আপনার অ্যান্টিভাইরাস একে ম্যালওয়্যার বলছে।

ভাইরাস ডেফিনিশনঃ

ডেফিনিশন ফাইলে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের কিছু চিহ্ন থাকে যাদের আগেই ল্যাবে এনকাউন্টার করা হয়েছে। অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ফাইল স্ক্যান করার সময় এদেরকে পরিচিত ম্যালওয়্যারের সাথে মিল করে দেখে এবং সিসেটমে  তাদের এক্সিকিউশন বন্ধ করে “quarantine” এ পাঠায়। অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের সেটিংস এর উপর ভিত্তি এটি ভাইরাস আক্রান্ত ফাইল মুছে ফেলতে পারে অথবা আপনাকে ফাইলটি রান করতে দিতে পারে। যদি আপনি মনে করেন যে এটি কোন ভুল সংকেত। অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়মিত ভাইরাস ডেফিনিশন আপডেট রিলিজ করতে থাকে। অ্যান্টিভাইরাস ল্যাবে ম্যালওয়্যারকে বিভিন্ন টুলস্‌ ব্যবহার কেও বিভক্ত করা হয়, স্যান্ডবক্সে রান করা হয় এবং সময় মতো আপডেট রিলিজ করা হয়। প্রতিষ্ঠান গুলো ইউজারকে নতুন ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে রক্ষার চেস্টা করে।

ডিটেকশন রেটঃ

ভাইরাস শনাক্ত করার ক্ষমতা কে ডিটেকশন রেট বোঝানো হয়।  বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের ডিটেকশন রেট বিভিন্ন। কিছু অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিযোগীদের চাইতে বেশি পরিমানে ভাইরাস ডেফিনিশন রিলিজ করে ডিটেকশন রেট বাড়ায়। কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রতি নিয়ত অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের ডিটেকশন রেটের তুলনা প্রকাশ করে। AV-Comparitives (www.av-comparatives.org/comparativesreviews/dynamic-tests) হলো এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।

সম্পূর্ণ সিস্টেম স্ক্যানঃ

real-time protection এ সাধারণত সম্পূর্ন সিস্টেম স্ক্যান হয়না। সম্পূর্ন সিস্টেম স্ক্যান করার জন্য Full System Scans অপশন ব্যবহার করতে হয়। আপনি যদি একটি ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে তবে অ্যান্টিভাইরাস মূহুর্তের মধ্যে তা বুঝতে পারবে। আপনার স্ক্যানের অপেক্ষায় থাকবে না। যা হোক Full System Scans কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন। যখন আপনি কম্পিউটারে নতুন অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করবেন তখন সম্পূর্ণ সিস্টেম স্ক্যান করতে হবে। এত নিশ্চিত হওয়া যাবে যে আপনার কম্পিউটারে সুপ্ত অবস্থায় কোন ভাইরাস লুকিয়ে আছে কি না?

রিয়েল টাইম প্রটেকশনঃ

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটারে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং ওপেন করার সময় সকল ফাইল চেক করে। এই বিষয়টি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন – on-access scanning, background scanning, resident scanning, real-time protection ছাড়াও অন্য কিছু যা আপনার অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের উপর নির্ভর করবে। যখন আপনি একটি EXE ফাইলের উপর ডাবল ক্লিক করে ওপেন করেন তখন মনে হয় তা দ্রুতই চালু হয়। আসলে তা কিন্তু হয় না। আপনার অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম প্রথমে ফাইলটিকে প্রচলিত সকল ওর্য়াম এবং অন্যান্য বিভিন্ন টাইপের ম্যালওয়্যার এর সাথে তুলনা করে উক্ত প্রোগ্রামের বিভিন্ন ভাল মন্দ দিক বিবেচনা করে তার পর প্রোগ্রামটি রান হয়।অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ভাইরাস সম্বলিত অন্যান্য টাইপের ফাইলও স্ক্যান করে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় একটি জিপ ফাইল এ কমপ্রেস্‌ড অবস্থায় ভাইরাস থাকতে পারে। অথবা ওয়ার্ড ডকুমেন্টে ম্যালিশিয়াস ম্যাক্রো থাকতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস ফাইল স্ক্যান করে তখন যখন ফাইলটি ব্যবহার করা হয়। আপনি যখন একটি  EXE ডাউনলোড করেন তখন ফাইলটি খোলার পূর্বেই দ্রুত তা স্ক্যান করা হয় ।

আশা করি এন্তিভাইরাস সম্পর্কে আপনাদের কিছু বেসিক ধারনা হইছে।

আশা আপনাদের ভাল লেগেছে।

ধন্যবাদ।

Loading...
Scroll Up